২০ হাজার টাকার মধ্যে ১০টি সেরা Walton স্মার্টফোন: ২০২৬ সালের আলটিমেট বাজেট গাইড
২০ হাজার টাকার মধ্যে ১০টি সেরা Walton স্মার্টফোন: ২০২৬ সালের আলটিমেট বাজেট গাইড
আমাদের প্রতিদিনের পথচলায় স্মার্টফোন এখন আর বিলাসিতা নয়, বরং সবচেয়ে বড় প্রয়োজন। কিন্তু সবার বাজেট তো আর সমান থাকে না। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত বা শিক্ষার্থী বন্ধুদের জন্য ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকার মধ্যে একটি ভালো মানের অলরাউন্ডার ফোন খুঁজে পাওয়া বেশ কষ্টের কাজ। গ্লোবাল ব্র্যান্ডগুলোর স্মার্টফোনের দাম প্রতিনিয়ত বাড়তে থাকায়, বর্তমানে দেশীয় ব্র্যান্ড ওয়ালটন আমাদের জন্য বেশ ভরসার জায়গা হয়ে উঠেছে।
আপনি যদি এই মুহূর্তে নিজের জন্য কিংবা প্রিয় কোনো মানুষের জন্য দেশীয় ব্র্যান্ডের সেরা বাজেট ফোনটি কিনতে চান, তবে সঠিক জায়গায় এসেছেন। আজকের এই আর্টিকেলে আমরা ২০ হাজার টাকার মধ্যে ১০টি সেরা Walton স্মার্টফোন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব। প্রতিটি ফোনের সুবিধা, অসুবিধা, ডিসপ্লে, প্রসেসর এবং ক্যামেরা পারফরম্যান্স কেমন হবে, তার একটি সম্পূর্ণ বাস্তবসম্মত গাইডলাইন এখানে পাবেন।
আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা
গত কয়েক মাসে আমার নিজের পরিবারের সদস্য ও বন্ধুদের জন্য কয়েকটি Walton ফোন সরাসরি শোরুম থেকে কিনে ব্যবহার করার সুযোগ হয়েছে। আমার খালাতো ভাইয়ের জন্য যখন আমি বাজেট ফ্রেন্ডলি একটি ফোন খুঁজছিলাম, তখন বাজারে নানা ব্র্যান্ডের ভিড়ে আমরা বেশ কনফিউশনে পড়ে যাই। এরপর আমরা ওয়ালটনের একটি বাজেট স্মার্টফোন বেছে নিই। ফোনটির পারফরম্যান্স, বিশেষ করে চার্জিং ব্যাকআপ এবং চমৎকার মেক-ইন-বাংলাদেশ ফিনিশিং দেখে আমি সত্যি মুগ্ধ হয়েছিলাম।
সেই ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা এবং বর্তমান বাজারের ডাটাবেজ বিশ্লেষণ করে আমি এই তালিকাটি তৈরি করেছি। প্রযুক্তি বাজারে দাম ও অফার প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হতে পারে। তাই ফোন কেনার আগে অবশ্যই ওয়ালটনের অফিশিয়াল শোরুম বা ওয়েবসাইট থেকে সর্বশেষ আপডেটটি চেক করে নেবেন।
কেন Walton ফোন কিনবেন?
বিদেশি বড় বড় ব্র্যান্ডগুলোর ভিড়ে ওয়ালটন কেন আমাদের জন্য ভালো অপশন হতে পারে? এর পেছনে বেশ কিছু চমৎকার কারণ রয়েছে:
- মেড ইন বাংলাদেশ: ওয়ালটনের ফোনগুলো দেশেই সংযোজিত ও প্রস্তুত হয়। তাই আমাদের দেশের তরুণদের কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে এই ব্র্যান্ড বড় ভূমিকা রাখছে।
- সহজ বিক্রয়োত্তর সেবা: আমাদের দেশের আনাচে-কানাচে ওয়ালটনের সার্ভিস সেন্টার রয়েছে। ফলে পার্টস পাওয়া বা রিপ্লেসমেন্ট ওয়ারেন্টি পাওয়ার প্রক্রিয়াটি অনেক বেশি সহজ ও দ্রুত হয়।
- বাজেট ফ্রেন্ডলি ফিচার: কম দামে বেশি র্যাম ও স্টোরেজ দেওয়ার ক্ষেত্রে ওয়ালটনের জুড়ি মেলা ভার। ২০ হাজার টাকার নিচে তারা এমন সব দুর্দান্ত ডিসপ্লে ও গেমিং প্রসেসর দিচ্ছে যা সত্যিই প্রশংসনীয়।
- বিটিআরসি অনুমোদিত: এটি শতভাগ দেশীয় ব্র্যান্ড হওয়ায় বিটিআরসি (BTRC) বা নেটওয়ার্ক ব্লকিং সংক্রান্ত কোনো ঝামেলায় পড়ার আশঙ্কা থাকে না।
২০ হাজার টাকার মধ্যে ১০টি সেরা Walton স্মার্টফোন (এক নজরে)
নিচে একটি সংক্ষিপ্ত টেবিলের মাধ্যমে সেরা ১০টি ওয়ালটন ফোনের মূল স্পেসিফিকেশনগুলো তুলে ধরা হলো:
| মডেলের নাম | ডিসপ্লে | প্রসেসর | র্যাম | স্টোরেজ | ব্যাক ক্যামেরা | ব্যাটারি | আনুমানিক দাম |
|---|---|---|---|---|---|---|---|
| Walton Orbit Y21 | 6.6″ HD+ 90Hz | Helio G85 | 6 GB | 128 GB | 50 MP + AI | 5000 mAh | ১৪,৫০০/- |
| Walton Primo S8 | 6.78″ FHD+ 90Hz | Helio G88 | 6 GB | 128 GB | 48 MP Quad | 5000 mAh | ১৮,৯৯৯/- |
| Walton Orbit Y50 | 6.56″ HD+ IPS | Helio G36 | 4 GB | 64 GB | 13 MP Dual | 5000 mAh | ১১,৯৯৯/- |
| Walton Primo S8 Mini | 6.53″ FHD+ LTPS | Snapdragon 665 | 6 GB | 64 GB | 16 MP Quad | 5000 mAh | ১৫,৫০০/- |
| Walton Primo H10 | 6.52″ HD+ IPS | Helio G35 | 4 GB | 64 GB | 13 MP Triple | 5000 mAh | ১২,৯৯৯/- |
| Walton Primo R10 | 6.52″ HD+ 90Hz | Unisoc T610 | 4 GB | 64 GB | 13 MP Triple | 4850 mAh | ১৩,৫০০/- |
| Walton Orbit Y22 | 6.6″ HD+ IPS | Quad Core 2.0GHz | 4 GB | 64 GB | 13 MP Dual | 5000 mAh | ১০,৫০০/- |
| Walton Primo GH11 | 6.52″ HD+ IPS | Helio A22 | 3 GB | 32 GB | 13 MP Triple | 5000 mAh | ৮,৯৯৯/- |
| Walton Orbit Y19 | 6.52″ HD+ IPS | Helio G25 | 4 GB | 64 GB | 13 MP Dual | 5000 mAh | ১১,২০০/- |
| Walton Primo S7 Pro | 6.3″ FHD+ LTPS | Helio P70 | 6 GB | 128 GB | 48 MP Triple | 4625 mAh | ১৯,৫০০/- |
Walton স্মার্টফোনগুলোর বিস্তারিত রিভিউ
নিচে ২০ হাজার টাকার মধ্যে ১০টি সেরা Walton স্মার্টফোন এর প্রতিটি মডেলের বিস্তারিত ভালো দিক, খারাপ দিক এবং আমাদের নিজস্ব বিশেষজ্ঞ মতামত আলোচনা করা হলো:
১. Walton Orbit Y21: ২০ হাজার টাকার মধ্যে ১০টি সেরা Walton স্মার্টফোন এর অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার
ওয়ালটনের অর্বিট সিরিজের নতুন একটি জনপ্রিয় ফোন হলো ওয়ানটনের এই মডেলটি। কম বাজেটে দুর্দান্ত ডিজাইন এবং স্মুথ পারফরম্যান্সের জন্য এই ফোনটি বাজারে বেশ সারা ফেলেছে।
- ডিসপ্লে: ৬.৬ ইঞ্চির আইপিএস ডিসপ্লে, সাথে ৯ normalHz রিফ্রেশ রেট থাকার কারণে স্ক্রলিং করতে কোনো সমস্যা হবে না।
- প্রসেসর ও র্যাম: মিডিয়াটেক হেলিও জি৮৫ গেমিং চিপসেট ব্যবহার করা হয়েছে। ৬ জিবি র্যাম থাকায় মাল্টিটাস্কিং খুবই স্মুথ হয়।
- ক্যামেরা: ৫০ মেগাপিক্সেলের মূল ব্যাক ক্যামেরা এবং ৮ মেগাপিক্সেলের সেলফি ক্যামেরা। দিনের আলোতে ছবি বেশ দারুণ আসে।
ভালো দিক:
- ৯০ হার্জের ফাস্ট রিফ্রেশ রেট।
- ৫০০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ারের দীর্ঘস্থায়ী ব্যাটারি।
- প্রিমিয়াম লুকিং মেটালিক ফিনিশ ব্যাক প্যানেল।
খারাপ দিক:
- ভারী গেম খেলার সময় ফোন কিছুটা গরম হতে পারে।
- ফুল এইচডি ডিসপ্লে নয়।
- কাদের জন্য ভালো: যারা ১৫ হাজার টাকার আশেপাশে সাধারণ গেমিং ও বড় স্টোরেজের সুন্দর একটি ফোন চান।
- আমাদের মতামত: দাম অনুযায়ী এর র্যাম ও প্রসেসরের কম্বিনেশন সত্যিই অসাধারণ। সাধারণ কাজের জন্য এটি একটি চমৎকার ফোন।
- রেটিং: ৮.৫ / ১০
২. Walton Primo S8: প্রিমিয়াম লুক ও শক্তিশালী প্রসেসর
প্রাইমো সিরিজের মধ্যে এস৮ একটি লিজেন্ডারি ফোন। যদি আপনার বাজেট ২০ হাজার টাকার কাছাকাছি হয়, তবে এই ফোনটি আপনার প্রথম পছন্দ হওয়া উচিত।
- ডিসপ্লে: ৬.৭৮ ইঞ্চির বিশাল ফুল এইচডি প্লাস (FHD+) ডিসপ্লে, যা মুভি দেখা বা গেম খেলার জন্য অত্যন্ত দারুণ।
- পারফরম্যান্স: হেলিও জি৮৮ অক্টা-কোর প্রসেসর এবং ৬ জিবি র্যাম। ফলে দৈনন্দিন জীবনের সব কাজ ল্যাগ ছাড়াই করা সম্ভব।
- স্টোরেজ: ১২৮ জিবি অনবোর্ড স্টোরেজ থাকায় মেমোরি শেষ হওয়ার কোনো চিন্তা নেই।
ভালো দিক:
- বিশাল ফুল এইচডি প্লাস বড় স্ক্রিন।
- টাইপ-সি দ্রুত চার্জিং ব্যবস্থা।
- পাঞ্চ হোল সেলফি ক্যামেরা ডিজাইন যা দেখতে বেশ আধুনিক।
খারাপ দিক:
- ফোনটির ওজন কিছুটা বেশি মনে হতে পারে।
- আপডেট পলিসি আরও ভালো করা যেত।
- কাদের জন্য ভালো: যারা বড় পর্দায় সিনেমা দেখতে ভালোবাসেন এবং একটু প্রফেশনাল লেভেলের ব্যবহারকারী।
- আমাদের মতামত: ২০ হাজার টাকার নিচে ফুল এইচডি প্লাস ডিসপ্লে সহ ওয়ান অব দি বেস্ট ডিল এটি।
- রেটিং: ৯.০ / ১০
৩. Walton Orbit Y50: বাজেট ফ্রেন্ডলি ভরসা
যাদের বাজেট একদম টাইট অর্থাৎ ১২ হাজার টাকার মধ্যে ভালো একটি ওয়াটারড্রপ ডিসপ্লের ফোন খুঁজছেন, তাদের জন্য অর্বিট ওয়াই৫০ বেশ আকর্ষণীয়।
- ডিসপ্লে ও বিল্ড: ৬.৫৬ ইঞ্চির ডিসপ্লে। ফোনের গ্রিপ চমৎকার এবং প্লাস্টিক হলেও বডিটি বেশ টেকসই।
- হার্ডওয়্যার: হেলিও জি৩৬ প্রসেসর এবং ৪ জিবি র্যাম। সোশ্যাল মিডিয়া ব্রাউজিং এবং ইউটিউব স্ক্রলিংয়ের জন্য এটি পারফেক্ট।
ভালো দিক:
- খুবই সাশ্রয়ী দাম।
- ৫০০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার ব্যাটারি অনায়াসে দেড় দিন ব্যাকআপ দেবে।
- সাইড মাউন্টেড ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর।
খারাপ দিক:
- ভারী গেম একদমই খেলা যাবে না।
- চার্জ হতে তুলনামূলক একটু বেশি সময় নেয়।
- কাদের জন্য ভালো: বাবা-মা অথবা স্কুল পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের জন্য যাদের অনলাইন ক্লাস ও সাধারণ যোগাযোগের জন্য ফোন প্রয়োজন।
- আমাদের মতামত: কম বাজেটে ওয়ালটনের পক্ষ থেকে একটি চমৎকার ও নির্ভরযোগ্য ডেইলি ড্রাইভার ফোন।
- রেটিং: ৮.০ / ১০
৪. Walton Primo S8 Mini: স্লিম ও গর্জিয়াস ডিজাইন
আপনি যদি বিশাল ফোন পছন্দ না করেন এবং একটি স্লিম ও কম্প্যাক্ট ফোন হাত দিয়ে সহজে ব্যবহার করতে চান, তবে প্রিমো এস৮ মিনি আপনার মন জয় করবে।
- ডিসপ্লে: ৬.৫৩ ইঞ্চির ফুল এইচডি প্লাস এলটিপিএস ডিসপ্লে। কালার প্রোডাকশন খুবই চমৎকার।
- প্রসেসর: স্ন্যাপড্রাগন ৬৬৫ প্রসেসর। ওয়ালটনের খুব কম ফোনেই স্ন্যাপড্রাগন চিপসেট দেখা যায়, তাই এর অপ্টিমাইজেশন বেশ জেনুইন।
ভালো দিক:
- স্লিম ও প্রিমিয়াম কার্ভড ব্যাক ডিজাইন।
- স্ন্যাপড্রাগনের স্ট্যাবল পারফরম্যান্স।
- রিয়ার কোয়াড ক্যামেরা সেটআপ।
খারাপ দিক:
- প্রসেসরটি কিছুটা পুরোনো জেনারেশনের।
- ইন-বক্স ইয়ারফোন দেওয়া হয় না।
- কাদের জন্য ভালো: যারা স্লিম ও হালকা ওজনের প্রিমিয়াম লুকের ফোন ভালোবাসেন।
- আমাদের মতামত: ১৫ হাজার টাকার রেঞ্জে স্ন্যাপড্রাগন প্রসেসর এবং ফুল এইচডি ডিসপ্লের এই কম্বিনেশন বড্ড বিরল।
- রেটিং: ৮.৪ / ১০
৫. Walton Primo H10: ক্যামেরা সেন্ট্রিক বাজেট ফোন
ফটোগ্রাফিপ্রেমীদের জন্য ওয়ালটন প্রাইমো এইচ১০ বেশ জনপ্রিয়। এর ক্যামেরার কালার টোন ও ডিটেইলিং বেশ মনকাড়া।
- ক্যামেরা: পেছনে ট্রিপল ক্যামেরা রয়েছে যার মূল সেন্সরটি ১৩ মেগাপিক্সেল। দিনের আলোতে বেশ চমৎকার পোর্ট্রেট ছবি তোলা যায়।
- ডিসপ্লে: ৬.৫২ ইঞ্চির ওয়াটারড্রপ নচ ডিসপ্লে। ভিউয়িং অ্যাঙ্গেল বেশ ভালো।
ভালো দিক:
- বাজেট অনুযায়ী অসাধারণ রিয়ার ক্যামেরা অপ্টিমাইজেশন।
- ফিঙ্গারপ্রিন্ট ও ফেস আনলক ফিচার বেশ ফাস্ট।
- টাইপ-সি পোর্ট চার্জিং সুবিধা।
খারাপ দিক:
- র্যাম মাত্র ৪ জিবি হওয়ায় মাল্টিটাস্কিংয়ে কিছুটা সীমাবদ্ধতা রয়েছে।
- ইউজার ইন্টারফেসে হালকা ব্লোটওয়্যার থাকতে পারে।
- কাদের জন্য ভালো: যারা ছবি তুলতে এবং ফেসবুকে নিয়মিত পোস্ট করতে ভালোবাসেন।
- আমাদের মতামত: মিড-রেঞ্জের বাজেটে ক্যামেরার দিক থেকে এটি একটি বিশ্বস্ত ফোন।
- রেটিং: ৮.২ / ১০
৬. Walton Primo R10: গেমারদের সাশ্রয়ী সঙ্গী
গেমিং ফোন মানেই যে অনেক দাম হতে হবে তা নয়। ওয়ালটন প্রাইমো আর১০ খুবই সীমিত বাজেটে চমৎকার গেমিং এক্সপেরিয়েন্স দেয়।
- প্রসেসর: ইউনিসক টাইগার টি৬১০ অক্টা-কোর গেমিং প্রসেসর। এটি ফ্রি ফায়ারের মতো গেম খুব সহজেই লো ও মিডিয়াম গ্রাফিক্সে চালাতে পারে।
- ডিসপ্লে: ৬.৫২ ইঞ্চির ৯০ হার্জ রিফ্রেশ রেটের ডিসপ্লে যা গেম খেলার সময় স্মুথ ফিডব্যাক দেয়।
ভালো দিক:
- ৯০ হার্জ ফাস্ট ডিসপ্লে।
- চমৎকার গেমিং চিপসেট অপ্টিমাইজেশন।
- টাইপ-সি চার্জিং পোর্ট।
খারাপ দিক:
- রিয়ার ক্যামেরা কম আলোতে ভালো পারফর্ম করে না।
- প্লাস্টিক বডি সহজে স্ক্র্যাচ পড়ে যায়।
- কাদের জন্য ভালো: যারা ফ্রি ফায়ার বা হালকা গেমিংয়ের জন্য কম দামে একটি ভালো ফোন খুঁজছেন।
- আমাদের মতামত: ১৩ হাজার টাকার মধ্যে এর চেয়ে ভালো গেমিং পারফরম্যান্স অন্য কোনো ফোন থেকে পাওয়া কঠিন।
- রেটিং: ৮.৩ / ১০
৭. Walton Orbit Y22: স্টাইলিশ ও সাশ্রয়ী
কম দামে প্রিমিয়াম গ্লসি ফিনিশিং ডিজাইনের চমৎকার একটি ফোন হলো ওয়ালটন অর্বিট ওয়াই২২। এটি দেখতে যেমন সুন্দর, তেমনি কাজের দিক থেকেও বিশ্বস্ত।
- ডিজাইন: এর ট্রিপল রিং ক্যামেরা মডিউল ডিজাইন অনেক দামি ফোনের অনুভূতি দেয়।
- ব্যাটারি: ৫০০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ারের বিশাল ব্যাটারি যা একবার চার্জ দিলে সারাদিন অনায়াসে পার করে দেবে।
ভালো দিক:
- খুবই প্রিমিয়াম ও মডার্ন ক্যামেরা ডিজাইন।
- ভালো ব্যাটারি লাইফ।
- মাইক্রো এসডি কার্ড দিয়ে স্টোরেজ বাড়ানো যায়।
খারাপ দিক:
- চার্জিং স্পিড বেশ ধীরগতির।
- প্রসেসরটি কিছুটা এন্ট্রি-লেভেলের।
- কাদের জন্য ভালো: যারা অল্প বাজেটে দেখতে অত্যন্ত আকর্ষণীয় একটি সাধারণ ফোন চান।
- আমাদের মতামত: যারা মূলত ফোন কল, ইমেইল এবং সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করেন, তাদের জন্য এটি দারুণ।
- রেটিং: ৮.০ / ১০
৮. Walton Primo GH11: একদম সস্তায় সেরা ফোন
যাদের বাজেট ১০ হাজার টাকার নিচে এবং একটি আধুনিক এন্ড্রয়েড ফোন চান, তাদের জন্য ওয়ালটন প্রাইমো জিএইচ১১ সেরা চয়েস।
- র্যাম ও স্টোরেজ: ৩ জিবি র্যাম এবং ৩২ জিবি স্টোরেজ। এটি এন্ড্রয়েড ১১ গো এডিশনে চলে, যা ফোনকে কখনো স্লো হতে দেয় না।
- ব্যাটারি: ৫০০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার ব্যাটারি।
ভালো দিক:
- ১০ হাজার টাকার নিচে সেরা অ্যান্ড্রোয়েড ফোন।
- লাইট ইউআই হওয়ার কারণে ফোন ল্যাগ করে না।
- মেমোরি কার্ড স্লট রয়েছে।
খারাপ দিক:
- স্টোরেজ মাত্র ৩২ জিবি, যা বেশ দ্রুত শেষ হয়ে যেতে পারে।
- গেমিংয়ের জন্য উপযুক্ত নয়।
- কাদের জন্য ভালো: প্রথমবার যারা বাটন ফোন থেকে টাচ স্ক্রিন বা স্মার্টফোনে শিফট করছেন।
- আমাদের মতামত: স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য ওয়ালটনের একটি মহৎ ও সাশ্রয়ী উপহার।
- রেটিং: ৭.৮ / ১০
৯. Walton Orbit Y19: দীর্ঘস্থায়ী চার্জের নিশ্চয়তা
অর্বিট ওয়াই১৯ মডেলটি বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছে দীর্ঘস্থায়ী ব্যাটারি পারফরম্যান্স এবং চমৎকার অডিও কোয়ালিটির সমন্বয়ে।
- ব্যাটারি ও অডিও: ৫০০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার ব্যাটারির পাশাপাশি এর লাউডস্পিকারটি বেশ জোরালো ও স্পষ্ট শব্দ দেয়।
- ডিসপ্লে: ৬.৫২ ইঞ্চির উজ্জ্বল ডিসপ্লে, যা রোদের আলোতেও বেশ পরিষ্কার দেখা যায়।
ভালো দিক:
- লাউড এবং ক্লিয়ার অডিও স্পিকার।
- দীর্ঘস্থায়ী ব্যাটারি লাইফ।
- মজবুত এবং শক্ত বিল্ড কোয়ালিটি।
খারাপ দিক:
- ফোন চার্জ হতে প্রায় ৩ ঘণ্টার মতো সময় লাগে।
- কাস্টমাইজেশন অপশন কিছুটা কম।
- কাদের জন্য ভালো: যারা সারাদিন বাইরে থাকেন এবং দীর্ঘক্ষণ ফোন কথা বলার জন্য দীর্ঘস্থায়ী চার্জের ফোন চান।
- আমাদের মতামত: এর বিল্ড কোয়ালিটি এবং ব্যাটারি ব্যাকআপ এই প্রাইস রেঞ্জে অতুলনীয়।
- রেটিং: ৮.১ / ১০
১০. Walton Primo S7 Pro: ক্লাসিক কিং
ওয়ালটনের এই মডেলটি অনেক আগে রিলিজ হলেও এর অসাধারণ মেটাল বডি এবং শক্তিশালী ফিচারের কারণে ২০ হাজার টাকার নিচে এখনও এটি একটি ট্রেন্ডি অপশন।
- ডিসপ্লে ও ডিজাইন: ৬.৩ ইঞ্চির ফুল এইচডি প্লাস এলটিপিএস ডিসপ্লে। এর বেজেল খুবই সরু ও দেখতে ফ্যাবিলিউলাস।
- পারফরম্যান্স: হেলিও পি৭০ প্রসেসর ও ৬ জিবি র্যাম। এই প্রসেসরটি যেকোনো মাল্টিটাস্কিং অনায়াসে সামলাতে পারে।
ভালো দিক:
- মেটালিক গ্লাস ফিনিশ গর্জিয়াস ডিজাইন।
- ৬ জিবি র্যাম ও ১২৮ জিবি বিশাল স্টোরেজ।
- ১০ ওয়াটের ওয়্যারলেস চার্জিং সাপোর্ট (এই বাজেটে অবিশ্বাস্য!)।
খারাপ দিক:
- এটি কিছুটা পুরোনো মডেল হওয়ায় লেটেস্ট এন্ড্রয়েড আপডেট পাওয়া যাবে না।
- ব্যাটারি ক্ষমতা ৪৬২৫ মিলিঅ্যাম্পিয়ার, যা ৫০০০ এর চেয়ে সামান্য কম।
- কাদের জন্য ভালো: যারা একটি ক্লাসিক এবং প্রিমিয়াম লুকের ফোন ব্যবহার করতে ভালোবাসেন।
- আমাদের মতামত: আপনি যদি সফটওয়্যার আপডেট নিয়ে মাথা না ঘামান, তবে এই দামে এর প্রিমিয়াম বিল্ড অন্য কোনো ব্রান্ডে পাবেন না।
- রেটিং: ৮.৭ / ১০
আরো পড়ুন:
- ২০ হাজার টাকার নিচে সেরা ১০টি ফোন
- ২০-৩০ হাজার টাকার মধ্যে ১০ টি সেরা স্মার্টফোন
- ১০-১৫ হাজার টাকার মধ্যে ১০ টি সেরা স্মার্টফোন
- Samsung বনাম Xiaomi — কোন ফোন কিনবেন? সঠিক গাইড
- Android ফোনের গতি বাড়ানোর ১০টি সহজ টিপস
- New Website
২০ হাজার টাকার মধ্যে ১০টি সেরা Walton স্মার্টফোন
২০ হাজার টাকার মধ্যে Walton ফোন কেনার আগে কী দেখবেন? (Walton ফোন কেনার গাইড)
বাজেটের মধ্যে একটি পারফেক্ট ফোন বেছে নেওয়ার জন্য শোরুমে যাওয়ার আগে নিচের বিষয়গুলো অবশ্যই মাথায় রাখবেন:
১. ডিসপ্লে রেজোলিউশন: যদি আপনার বাজেট ১৫ হাজার টাকার বেশি হয়, তবে অবশ্যই Full HD+ (FHD+) ডিসপ্লে নেওয়ার চেষ্টা করুন। এতে ইউটিউবে ভিডিও দেখার অভিজ্ঞতা অনেক গুণ চমৎকার হবে।
২. র্যাম ও প্রসেসর জেনারেশন: অন্তত ৪ জিবি এবং সম্ভব হলে ৬ জিবি র্যাম ভ্যারিয়েন্ট বেছে নিন। মিডিয়াটেক হেলিও জি৮৫ বা জি৮৮ প্রসেসরযুক্ত ফোনগুলো গেমিংয়ের জন্য ভালো পারফর্ম করবে।
৩. টাইপ-সি চার্জিং পোর্ট: বর্তমান যুগে মাইক্রো ইউএসবি পোর্ট এড়িয়ে চলা উচিত। টাইপ-সি পোর্ট থাকলে ডাটা ট্রান্সফার ও চার্জিং স্পিড অনেক দ্রুত হয়।
৪. সার্ভিস সেন্টার চেক: আপনার বাড়ির আশেপাশে ওয়ালটনের প্লাজা বা সার্ভিস সেন্টার আছে কিনা তা আগেই জেনে নিন। এতে করে যেকোনো প্রয়োজনে দ্রুত সেবা পাবেন।
FAQ: ২০ হাজার টাকার মধ্যে ১০টি সেরা Walton স্মার্টফোন
১. ২০ হাজার টাকার মধ্যে ১০টি সেরা Walton স্মার্টফোন এর মধ্যে গেমিংয়ের জন্য সেরা কোনটি?
গেমিংয়ের জন্য এই তালিকার মধ্যে Walton Primo S8 সবচেয়ে সেরা। এতে রয়েছে মিডিয়াটেক হেলিও জি৮৮ গেমিং প্রসেসর এবং ৬ জিবি র্যাম, যা পাবজি বা ফ্রি ফায়ারের মতো গেম ল্যাগ ছাড়া রান করতে পারে।
২. ওয়ালটন ফোন কি সত্যিই আমাদের দেশে তৈরি হয়?
হ্যাঁ, ওয়ালটনের নিজস্ব হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রি গাজীপুরের চন্দ্রায় অবস্থিত। সেখানে বিশ্বমানের প্রযুক্তির সাহায্যে এই ফোনগুলো সম্পূর্ণ নিজস্ব কারখানায় সংযোজন ও প্রস্তুত করা হয়।
৩. ওয়ালটন ফোনের ক্যামেরা কি ভালো হয়?
ওয়ালটন তাদের বাজেট অনুযায়ী ক্যামেরা সেন্সর বেশ ভালো ব্যবহার করে। বিশেষ করে Walton Orbit Y21 এর ৫০ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা দিনের আলোতে ও পোর্ট্রেট মোডে বেশ উজ্জ্বল ছবি তুলতে পারে।
৪. ওয়ালটন ফোনে কি কাস্টম রম ব্যবহার করা যায়?
না, সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য অফিসিয়াল স্টক অ্যান্ড্রোয়েড রমে থাকাটাই সবচেয়ে নিরাপদ। কাস্টম রম ব্যবহার করলে ফোনের অফিশিয়াল ওয়ারেন্টি বাতিল হয়ে যেতে পারে।
৫. ওয়ালটন ফোনের ব্যাটারি লাইফ কেমন থাকে?
ওয়ালটনের প্রায় প্রতিটি ফোনেই ৫০০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ারের বিশাল ব্যাটারি থাকে। সাধারণ ব্যবহারে এই ফোনগুলো অনায়াসে ১.৫ থেকে ২ দিন পর্যন্ত ব্যাটারি ব্যাকআপ দিতে সক্ষম।
৬. ২০ হাজার টাকার নিচে ওয়ালটন ফোনে কি ফাস্ট চার্জিং পাওয়া যায়?
হ্যাঁ, Walton Primo S8 এর মতো ফোনগুলোতে ১৮ ওয়াটের ফাস্ট চার্জিং সুবিধা রয়েছে, যা ফোনকে দ্রুত চার্জ করতে সাহায্য করে।
৭. ওয়ালটন ফোনের টাচ রেসপন্স কেমন?
ওয়ালটনের নতুন ও অর্বিট সিরিজের ফোনগুলোতে ৯০ হার্জের মতো ফাস্ট রিফ্রেশ রেটের ডিসপ্লে দেওয়া হয়েছে, যার ফলে টাচ রেসপন্স এবং স্ক্রলিং অত্যন্ত মসৃণ মনে হয়।
৮. ফোনের দাম কি যেকোনো সময় পরিবর্তিত হতে পারে?
হ্যাঁ, শোরুমের অফার, ট্যাক্স বা কোম্পানির বিশেষ প্রচারণার কারণে ওয়ালটন ফোনের দাম পরিবর্তিত হতে পারে। তাই কেনার আগে নিকটস্থ ওয়ালটন প্লাজা থেকে দামটি রিচেক করা ভালো।
উপসংহার: ২০ হাজার টাকার মধ্যে ১০টি সেরা Walton স্মার্টফোন
একটি ভালো স্মার্টফোন আমাদের প্রতিদিনের কাজকে অনেক বেশি সহজ ও গতিশীল করে তোলে। আমরা আজকের এই আর্টিকেলে ২০ হাজার টাকার মধ্যে ১০টি সেরা Walton স্মার্টফোন নিয়ে তাদের ভালো ও মন্দ দিকসহ বিস্তারিত আলোচনা করেছি। আপনি যদি একটি মসৃণ ও অলরাউন্ডার ফোন চান তবে Primo S8 অথবা Orbit Y21 আপনার জন্য সেরা চয়েস হতে পারে।
দেশীয় ব্র্যান্ডের তৈরি এই ফোনগুলো আমাদের আত্মনির্ভরশীল বাংলাদেশের প্রতীক। আশা করি, আমাদের এই নিরপেক্ষ রিভিউটি আপনার বাজেটের সেরা ফোনটি বেছে নিতে সাহায্য করবে।
আপনার মতে এই তালিকায় কোন ফোনটি সবচেয়ে ভালো লেগেছে এবং কেন? নিচে ঝটপট কমেন্ট করে আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের সাথে শেয়ার করুন! 🇧🇩❤️
২০ হাজার টাকার মধ্যে ১০টি সেরা Walton স্মার্টফোন













Post Comment