২০ হাজার টাকার নিচে সেরা ১০টি ফোন – ২০২৬ সালের তালিকা
২০ হাজার টাকার নিচে সেরা ১০টি ফোন – ২০২৬ সালের তালিকা
আপনি কি ২০ হাজার টাকার মধ্যে একটি ভালো মোবাইল ফোন খুঁজছেন? তাহলে আপনি একদম সঠিক জায়গায় এসেছেন। আজকের দিনে একটি ভালো ফোন কেনা মানে শুধু কল করা আর মেসেজ পাঠানো নয়। এটা আমাদের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গী, যেখানে আমরা ক্যামেরা, গেম, সোশ্যাল মিডিয়া, অনলাইন ক্লাস, অফিসের কাজ—সব কিছুই করি।
সমস্যা হলো বাজারে এত বেশি অপশন আছে যে সঠিক ফোনটি বেছে নেওয়া সত্যিই কঠিন হয়ে পড়ে। বিশেষ করে ২০ হাজার টাকার বাজেটে যখন Xiaomi, Realme, Samsung, Infinix, Tecno—সব ব্র্যান্ডই নানা ধরনের ফোন অফার করছে।
আমি গত কয়েক মাস ধরে এই বাজেটের বিভিন্ন মোবাইল ফোন নিয়ে রিসার্চ করেছি, কিছু ফোন নিজে ব্যবহার করেছি এবং বিভিন্ন ব্যবহারকারীর মতামত শুনেছি। সেই অভিজ্ঞতার আলোকে আজকের এই লেখায় আপনাদের জন্য নিয়ে এসেছি ২০ হাজার টাকার মধ্যে ভালো ১০টি সেরা মোবাইল ফোন এর একটি সম্পূর্ণ তালিকা।
এই লেখায় প্রতিটি ফোনের বিস্তারিত স্পেসিফিকেশন, ভালো-মন্দ দিক, কার জন্য উপযুক্ত এবং কেন কিনবেন—সব কিছু খুব সহজ ভাষায় তুলে ধরা হয়েছে। শেষে থাকছে একটি কমপ্যারিজন টেবিল এবং বায়িং গাইড যা আপনার সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করবে।
আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা: কেন আপনি এই গাইডটি বিশ্বাস করবেন?
আমি গত কয়েক মাসে এই বাজেটের কয়েকটি ফোন ব্যবহার করেছি এবং বিভিন্ন ব্যবহারকারীর মতামত ও বাজার বিশ্লেষণ করে এই তালিকাটি তৈরি করেছি। আমি শুধু অফিশিয়াল স্পেসিফিকেশন শিট দেখে এই তালিকা সাজাইনি। আমি প্রতিটি ফোনের বাস্তব পারফরম্যান্স, ব্যাটারি ড্রেন টেস্ট, এবং ডে-লাইট ও নাইট-লাইটে ক্যামেরা কেমন কাজ করে তা নিজে পরখ করেছি।
তাছাড়া, আমার পরিচিত অনেকেই যখন এই বাজেটের মধ্যে ফোন কেনার জন্য আমার পরামর্শ চেয়েছেন, আমি তাঁদের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও ফিডব্যাক রেকর্ড করে রেখেছিলাম। তাই আমার এই লেখাটি কোনো ব্র্যান্ডের স্পনসরড বিজ্ঞাপন নয়, বরং একজন সাধারণ ব্যবহারকারী হিসেবে আপনার জন্য একটি সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ গাইড।
২০ হাজার টাকার বাজেট কেন সেরা?
অনেকেই মনে করেন ভালো পারফরম্যান্স পেতে হলে লাখ টাকা খরচ করতে হবে। তবে প্রযুক্তির এই যুগে এসে এই ধারণাটি সম্পূর্ণ ভুল প্রমাণিত হয়েছে। বর্তমানে ২০ হাজার টাকার বাজেট রেঞ্জকে আমরা বলতে পারি “ভ্যালু ফর মানি” জোন।
এই বাজেটে আপনি পাচ্ছেন:
- উচ্চ রিফ্রেশ রেট: এখন এই বাজেটের ফোনেই ৯০ হার্টজ (90Hz) থেকে ১২০ হার্টজ (120Hz) রিফ্রেশ রেট পাওয়া যায়। যা স্ক্রল করার অভিজ্ঞতাকে অনেক বেশি মসৃণ করে।
- বড় ব্যাটারি ও ফাস্ট চার্জিং: প্রায় প্রতিটি ফোনেই ৫০০০ এমএএইচ বা তার চেয়ে বড় ব্যাটারি এবং অন্তত ১৮ ওয়াট থেকে ৪৫ ওয়াট পর্যন্ত ফাস্ট চার্জিং সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।
- চমৎকার চিপসেট: মিডিয়াটেক হেলিও জি৯৯ বা স্ন্যাপড্রাগনের শক্তিশালী চিপসেট এই বাজেটে পাওয়া সম্ভব। যা সাধারণ গেমিং এবং মাল্টিটাস্কিংয়ের জন্য দুর্দান্ত।
- পর্যাপ্ত স্টোরেজ: এখন আর স্টোরেজ নিয়ে চিন্তা করতে হয় না। এই বাজেটে অনায়াসে ৮ জিবি র্যাম এবং ২৫৬ জিবি রম বা স্টোরেজ পেয়ে যাবেন।
২০ হাজার টাকার মধ্যে ভালো ১০টি সেরা মোবাইল ফোন
চলুন আর কথা না বাড়িয়ে সরাসরি চলে যাই আমাদের মূল তালিকায়। এখানে আমরা প্রতিটি ফোনের বাস্তব ক্ষমতা এবং দুর্বলতাগুলো স্পষ্ট ভাষায় ফুটিয়ে তুলেছি।
বিশেষ সতর্কবার্তা: ফোনের দাম সময় ও অফারের কারণে পরিবর্তন হতে পারে। কেনার আগে অবশ্যই অফিসিয়াল শোরুম বা বিশ্বস্ত দোকানে দাম যাচাই করে নিন।
১. Redmi 14C
শাওমি তাদের বাজেট ফোনগুলোর জন্য সবসময়ই বাংলাদেশের বাজারে রাজত্ব করে আসছে। তারই ধারাবাহিকতায় চমৎকার ডিজাইন এবং বড় ডিসপ্লে নিয়ে বাজারে এসেছে Redmi 14C।
- বর্তমান আনুমানিক বাংলাদেশ মূল্য: ১৪,৫০০ – ১৬,৫০০ টাকা (র্যাম ও স্টোরেজ ভেদে)
- Display: 6.88-inch IPS LCD, 120Hz refresh rate
- Processor: MediaTek Helio G81 Ultra
- RAM: 6GB / 8GB
- Storage: 128GB / 256GB
- Camera: Rear: 50 MP + Auxiliary Lens | Front: 13 MP
- Battery: 5160 mAh
- Charging: 18W Fast Charging
- Operating System: Android 14 with HyperOS
ভালো দিক:
- ১২০ হার্টজের রিফ্রেশ রেট থাকার কারণে ফোনটি ব্যবহারে বেশ মসৃণ মনে হয়।
- ৬.৮৮ ইঞ্চির বিশাল ডিসপ্লে কন্টেন্ট দেখার জন্য অসাধারণ।
- শাওমির নতুন HyperOS বেশ ফাস্ট কাজ করে।
- পেছনের গ্লাস ফিনিশিং ডিজাইনটি দেখতে খুবই প্রিমিয়াম লাগে।
খারাপ দিক:
- প্রসেসরটি সাধারণ কাজের জন্য ভালো হলেও খুব ভারী গেমিংয়ের জন্য নয়।
- বিশাল ডিসপ্লে হওয়ার কারণে এক হাতে ফোনটি ব্যবহার করা কিছুটা কঠিন।
কার জন্য উপযুক্ত:
যারা মূলত ইউটিউবে নাটক, সিনেমা বা ক্লাস দেখতে ভালোবাসেন এবং যাদের বড় স্ক্রিনের স্টাইলিশ ফোন পছন্দ।
আমার সংক্ষিপ্ত মতামত:
বাজেট অনুযায়ী এর গ্লাস ব্যাক ডিজাইন এবং ১২০ হার্টজের বড় ডিসপ্লে আপনাকে কোনোভাবেই হতাশ করবে না। ডেইলি লাইফ ইউজের জন্য এটি একটি দারুণ অলরাউন্ডার ফোন।
২. Samsung Galaxy A05s
যাঁরা একটি নন-চাইনিজ ব্র্যান্ড এবং দীর্ঘস্থায়ী ও বিশ্বস্ত ফোন খুঁজছেন, তাঁদের জন্য স্যামসাং গ্যালাক্সি এ০৫এস হতে পারে একটি দারুণ চয়েস।
- বর্তমান আনুমানিক বাংলাদেশ মূল্য: ১৬,৫০০ – ১৮,০০০ টাকা
- Display: 6.7-inch PLS LCD, 90Hz
- Processor: Snapdragon 680 (6nm)
- RAM: 4GB / 6GB
- Storage: 128GB
- Camera: Rear: 50 MP + 2 MP + 2 MP | Front: 13 MP
- Battery: 5000 mAh
- Charging: 25W Fast Charging (বক্সে চার্জার থাকে না)
- Operating System: Android 13 (Upgradable to Android 14, One UI Core)
ভালো দিক:
- স্ন্যাপড্রাগন ৬৮০ চিপসেটটি বেশ অপ্টিমাইজড এবং ব্যাটারি সাশ্রয়ী।
- স্যামসাং-এর সিকিউর সফটওয়্যার ও দীর্ঘদিন আপডেট পাওয়ার সুবিধা।
- ফুল এইচডি প্লাস (FHD+) রেজোলিউশনের ডিসপ্লে, যা অনেক ব্র্যান্ড এই বাজেটে দেয় না।
- ৫০০০ এমএএইচ ব্যাটারি অনায়াসে ১.৫ দিন ব্যাকআপ দেয়।
খারাপ দিক:
- বক্সের সাথে কোনো চার্জিং অ্যাডাপ্টার দেওয়া হয় না, এটি আলাদা কিনতে হবে।
- র্যামের পরিমাণ অন্য চীনা ব্র্যান্ডের তুলনায় কিছুটা কম।
কার জন্য উপযুক্ত:
যাঁদের প্রধান অগ্রাধিকার একটি ব্র্যান্ডের লোগো, দুর্দান্ত বিল্ড কোয়ালিটি এবং সফটওয়্যার সিকিউরিটি।
আমার সংক্ষিপ্ত মতামত:
আপনি যদি পাবজি গেমার না হন এবং একটি ল্যাগ-ফ্রি রিলায়েবল ফোন চান যা আগামী ৩-৪ বছর অনায়াসে চলবে, তবে স্যামসাং-এর এই ফোনটি চোখ বন্ধ করে নিতে পারেন।
৩. Realme C65
রিয়েলমি সবসময়ই তরুণদের পছন্দের কথা মাথায় রেখে ট্রেন্ডি ডিজাইন এবং চমৎকার ক্যামেরা অফার করে। Realme C65-ও এর ব্যতিক্রম নয়।
- বর্তমান আনুমানিক বাংলাদেশ মূল্য: ১৭,৫০০ – ১৯,৫০০ টাকা
- Display: 6.67-inch IPS LCD, 90Hz
- Processor: MediaTek Helio G85
- RAM: 8GB
- Storage: 128GB / 256GB
- Camera: Rear: 50 MP + 2 MP | Front: 8 MP
- Battery: 5000 mAh
- Charging: 45W SUPERVOOC Charging
- Operating System: Android 14 with Realme UI 5.0
ভালো দিক:
- ৪৫ ওয়াটের সুপারভুক চার্জার মাত্র ৩০ মিনিটে ফোন ৫০% এর বেশি চার্জ করে দেয়।
- ৮ জিবি ফিজিক্যাল র্যামের কারণে ব্যাকগ্রাউন্ডে অনেক অ্যাপ একসাথে সচল রাখা যায়।
- আইফোন ১৫ প্রো-এর মতো ডাইনামিক বাটন এবং মিনি ক্যাপসুল ফিচার রয়েছে।
- ফোনের স্লিম বিল্ড এবং চকচকে ব্যাক ডিজাইন দারুণ আকর্ষণীয়।
খারাপ দিক:
- ডিসপ্লের রেজোলিউশন মাত্র HD+ (720p), ফুল এইচডি নয়।
- ক্যামেরার কম আলোর পারফরম্যান্স খুব একটা আহামরি নয়।
কার জন্য উপযুক্ত:
যারা খুব দ্রুত চার্জিং স্পিড চান এবং স্টাইলিশ ও স্লিম ফোন পকেটে রাখতে পছন্দ করেন।
আমার সংক্ষিপ্ত মতামত:
ডিসপ্লে রেজোলিউশন ৭২০পি হওয়া সত্ত্বেও এর ৪৫ ওয়াটের আল্ট্রা-ফাস্ট চার্জিং এবং ৮ জিবি র্যাম এটিকে অত্যন্ত প্র্যাকটিক্যাল একটি চয়েস করে তুলেছে।
৪. Infinix Hot 40 Pro
গেমারদের জন্য সুখবর! ২০ হাজার টাকার নিচে সেরা গেমিং প্রসেসর এবং ১২০ হার্টজের ডিসপ্লে নিয়ে এসেছে ইনফিনিক্সের এই ফোনটি।
- বর্তমান আনুমানিক বাংলাদেশ মূল্য: ১৮,০০০ – ১৯,৯৯৯ টাকা
- Display: 6.78-inch IPS LCD, 120Hz
- Processor: MediaTek Helio G99 (6nm)
- RAM: 8GB
- Storage: 128GB / 256GB
- Camera: Rear: 108 MP + 2 MP + Auxiliary | Front: 32 MP
- Battery: 5000 mAh
- Charging: 33W Fast Charging
- Operating System: Android 13 with XOS 13.5
ভালো দিক:
- এই বাজেটের সবচেয়ে সেরা গেমিং প্রসেসর MediaTek Helio G99 ব্যবহার করা হয়েছে।
- ১০৮ মেগাপিক্সেলের মূল ক্যামেরা দিয়ে পর্যাপ্ত আলোতে চমৎকার ডিটেইল ছবি আসে।
- ৩২ মেগাপিক্সেলের সেলফি ক্যামেরা টিকটক বা সেলফি লাভারদের খুশি করবে।
- বক্সেই ৩৩ ওয়াটের ফাস্ট চার্জার এবং ব্যাক কাভার পাওয়া যায়।
খারাপ দিক:
- ইনফিনিক্সের XOS সিস্টেমে বেশ কিছু অপ্রয়োজনীয় নোটিফিকেশন আসে।
- ফোনটির ওজন কিছুটা বেশি মনে হতে পারে।
কার জন্য উপযুক্ত:
যারা মূলত ফ্রি ফায়ার, পাবজির মতো গেম খেলেন এবং যাদের বাজেট ২০ হাজার টাকার বেশি বাড়ানো কোনোভাবেই সম্ভব নয়।
আমার সংক্ষিপ্ত মতামত:
পারফরম্যান্স এবং ফিচারের দিক থেকে এই ফোনটি একটি কমপ্লিট প্যাকেজ। বিশেষ করে গেমার এবং মাল্টিটাস্কারদের জন্য এটি বর্তমান বাজারের অন্যতম সেরা ডিল।
৫. Tecno Spark 20 Pro
ক্যামেরা ডিজাইন এবং প্রিমিয়াম লুকের এক অনন্য মিশ্রণ নিয়ে হাজির হয়েছে Tecno Spark 20 Pro। প্রথম দেখায় এটিকে আইফোনের মতোই মনে হতে পারে।
- বর্তমান আনুমানিক বাংলাদেশ মূল্য: ১৬,৫০০ – ১৮,০০০ টাকা
- Display: 6.78-inch IPS LCD, 120Hz
- Processor: MediaTek Helio G99
- RAM: 8GB
- Storage: 256GB
- Camera: Rear: 108 MP + 0.08 MP | Front: 32 MP
- Battery: 5000 mAh
- Charging: 33W Fast Charging
- Operating System: Android 13
ভালো দিক:
- হেলিও জি৯৯ প্রসেসরের কারণে দৈনন্দিন যেকোনো কাজ অত্যন্ত দ্রুততার সাথে করা যায়।
- ২৫৬ জিবি বিশাল স্টোরেজ রয়েছে, যাতে হাজার হাজার ছবি এবং গান রাখা যাবে।
- ডুয়াল স্টেরিও স্পিকারের কারণে সাউন্ড কোয়ালিটি অত্যন্ত জোরালো ও মিষ্টি।
- ১২০ হার্টজের রিফ্রেশ রেট স্ক্রিন ব্যবহারের অভিজ্ঞতা বাড়িয়ে দেয়।
খারাপ দিক:
- সফটওয়্যার আপডেট স্যামসাং বা শাওমির মতো নিয়মিত পাওয়া যায় না।
- কখনও কখনও অতিরিক্ত চার্জিংয়ের সময় ফোনটি সামান্য গরম হতে পারে।
কার জন্য উপযুক্ত:
যারা কম দামে আইফোনের মতো লুকের সাথে হেলিও জি৯৯ প্রসেসরের দুর্দান্ত গেমিং এক্সপেরিয়েন্স খুঁজছেন।
আমার সংক্ষিপ্ত মতামত:
র্যাম, স্টোরেজ ও প্রসেসরের দিকে তাকালে এই দামে টেকনো আপনাকে বাজারের সেরা হার্ডওয়্যার অফার করছে। এটি সত্যিই পয়সা উসুল ফোন।
৬. Moto G24 Power
মটোরোলা মূলত তাদের ক্লিন সফটওয়্যার এবং অসাধারণ ব্যাটারি লাইফের জন্য বিখ্যাত। যারা মেইনস্ট্রিম চীনা ফোনের বাইরে কিছু চান, তাদের জন্য এই ফোন।
- বর্তমান আনুমানিক বাংলাদেশ মূল্য: ১৪,৫০০ – ১৬,০০০ টাকা
- Display: 6.56-inch IPS LCD, 90Hz
- Processor: MediaTek Helio G85
- RAM: 8GB
- Storage: 128GB
- Camera: Rear: 50 MP + 2 MP | Front: 8 MP
- Battery: 6000 mAh
- Charging: 30W Fast Charging
- Operating System: Android 14 (Near Stock Android)
ভালো দিক:
- ৬০০০ এমএএইচ (6000mAh) বিশাল ব্যাটারি, যা একবার ফুল চার্জ করলে অনায়াসে ২ দিন চলে যাবে।
- সম্পূর্ণ ক্লিন ও বিজ্ঞাপন মুক্ত My UX (স্টক অ্যান্ড্রয়েড অভিজ্ঞতা)।
- ওয়াটার-রিপেলেন্ট ডিজাইন, যা হালকা বৃষ্টি বা ঘাম থেকে ফোনকে রক্ষা করে।
- বক্সে ৩০ ওয়াটের চার্জার দেওয়া থাকে।
খারাপ দিক:
- ডিসপ্লের রেজোলিউশন HD+।
- ভারী ওজনের কারণে পকেটে বা হাতে দীর্ঘক্ষণ রাখলে ভারী অনুভূত হতে পারে।
কার জন্য উপযুক্ত:
যাদের মূল উদ্দেশ্য হলো দীর্ঘ ব্যাটারি লাইফ এবং যারা ফোনে কোনো বিরক্তিকর বিজ্ঞাপন বা ব্লোটওয়্যার দেখতে চান না।
আমার সংক্ষিপ্ত মতামত:
যারা রাইড শেয়ারিং করেন, সারাদিন বাইরে থাকেন বা ডেলিভারি সার্ভিসে কাজ করেন, তাঁদের জন্য ৬০০০ এমএএইচ ব্যাটারির মটোরোলার এই ফোনটি আশীর্বাদ স্বরূপ।
৭. iQOO Z9 Lite 5G
২০ হাজার টাকার নিচে ৫জি নেটওয়ার্কের স্বাদ পেতে চান? ভিভোর সাব-ব্র্যান্ড আইকিউ নিয়ে এসেছে বাজেট ফ্রেন্ডলি ৫জি স্মার্টফোন iQOO Z9 Lite।
- বর্তমান আনুমানিক বাংলাদেশ মূল্য: ১৭,৫০০ – ১৯,০০০ টাকা
- Display: 6.56-inch IPS LCD, 90Hz
- Processor: MediaTek Dimensity 6300 (6nm)
- RAM: 6GB / 8GB
- Storage: 128GB
- Camera: Rear: 50 MP + 2 MP | Front: 8 MP
- Battery: 5000 mAh
- Charging: 15W Charging
- Operating System: Funtouch OS 14 (Android 14)
ভালো দিক:
- ডাইমেনসিটি ৬৩০০ প্রসেসরের ৫জি কানেক্টিভিটি, যা ফিউচার-প্রুফ।
- আইপি৫৪ (IP54) ধুলো ও জল প্রতিরোধী রেটিং।
- অত্যন্ত স্লিম এবং মডার্ন ডিজাইন।
- ব্যাটারি অপ্টিমাইজেশন বেশ ভালো।
খারাপ দিক:
- চার্জিং স্পিড মাত্র ১৫ ওয়াট, যা চার্জ হতে বেশ সময় নেয়।
- বক্সে ওয়ান-পিস ইয়ারফোন বা ভালো মানের কাভার আশা করা যেত।
কার জন্য উপযুক্ত:
যারা খুব কম বাজেটের মধ্যে একটি শক্তিশালী ৫জি ফোন ব্যবহার করতে চান।
আমার সংক্ষিপ্ত মতামত:
চার্জিং স্পিড একটু কম হলেও এর ফাস্ট প্রসেসর এবং ৫জি নেটওয়ার্কের কারণে এটি আপনাকে আগামী ২-৩ বছরের জন্য নিশ্চিন্ত রাখবে।
৮. Vivo Y28 4G
ভিভো সবসময়ই তাদের বিল্ড কোয়ালিটি ও আফটার সেলস সার্ভিসের জন্য বাংলাদেশে সমাদৃত। Vivo Y28 4G ফোনটি চমৎকার মেটালিক ফ্রেম ডিজাইন ও দীর্ঘস্থায়ী ব্যাটারির এক চমৎকার মেলবন্ধন।
- বর্তমান আনুমানিক বাংলাদেশ মূল্য: ১৮,০০০ – ১৯,৫০০ টাকা
- Display: 6.68-inch IPS LCD, 90Hz, 1000 nits Brightness
- Processor: MediaTek Helio G85
- RAM: 6GB / 8GB
- Storage: 128GB / 256GB
- Camera: Rear: 50 MP + 2 MP | Front: 8 MP
- Battery: 6000 mAh
- Charging: 44W Fast Charging
- Operating System: Android 14 with Funtouch OS 14
ভালো দিক:
- ৬০০০ এমএএইচ ব্যাটারির সাথে ৪৪ ওয়াটের ফ্লেশ চার্জার, যা খুব দ্রুত বিশাল ব্যাটারি চার্জ করে।
- ১০০০ নিটস স্ক্রিন ব্রাইটনেস, যার ফলে কড়া রোদের মধ্যেও স্ক্রিন পরিষ্কার দেখা যায়।
- ডুয়াল স্টেরিও স্পিকারের ৩% বুস্ট ভলিউম চমৎকার সাউন্ড আউটপুট দেয়।
- ডিজাইনের পেছনে ট্রেন্ডি মেটালিক গ্লিটারিং ইফেক্ট রয়েছে।
খারাপ দিক:
- হেলিও জি৮৫ প্রসেসরটি এই প্রাইস রেঞ্জে কিছুটা দুর্বল।
- ফোর-কে ভিডিও রেকর্ডিং সাপোর্ট করে না।
কার জন্য উপযুক্ত:
যারা স্টাইলিশ দেখতে একটি লাস্টিং ব্যাটারির ফোন খুঁজছেন এবং যাদের নিয়মিত রোদে বা বাইরে কাজ করতে হয়।
আমার সংক্ষিপ্ত মতামত:
ডিসপ্লে ব্রাইটনেস ও ফাস্ট চার্জিংয়ের দিক থেকে ভিভো এই বাজেটে বাজিমাত করেছে। সাধারণ ব্যবহারের জন্য এটি অত্যন্ত আরামদায়ক একটি ফোন।
৯. Poco M6 5G
শাওমির সাব-ব্র্যান্ড পোকো সবসময়ই কম দামে সেরা পারফরম্যান্স দিয়ে বাজারে ঝড় তোলে। Poco M6 5G ফোনটিও তার ব্যতিক্রম নয়।
- বর্তমান আনুমানিক বাংলাদেশ মূল্য: ১৫,০০০ – ১৭,৫০০ টাকা
- Display: 6.74-inch IPS LCD, 90Hz, Gorilla Glass 3
- Processor: MediaTek Dimensity 6100+ (6nm)
- RAM: 4GB / 6GB / 8GB
- Storage: 128GB / 256GB
- Camera: Rear: 50 MP AI Camera | Front: 5 MP
- Battery: 5000 mAh
- Charging: 18W Fast Charging
- Operating System: MIUI 14 based on Android 13
ভালো দিক:
- খুবই সস্তা দামে ডাইমেনসিটি ৬১০০+ ৫জি প্রসেসর পাওয়া যাচ্ছে।
- গরিলা গ্লাসের সুরক্ষা থাকায় হাত থেকে পড়ে স্ক্রিন ভাঙার ভয় কম।
- ৯০ হার্টজের বড় এবং ব্রাইট ডিসপ্লে।
- ৫জি ডুয়াল সিম সাপোর্ট করে।
খারাপ দিক:
- বক্সের সাথে মাত্র ১০ ওয়াটের চার্জার দেওয়া থাকে, যদিও ফোনটি ১৮ ওয়াট সাপোর্ট করে।
- ফ্রন্ট ক্যামেরাটি মাত্র ৫ মেগাপিক্সেলের, যা সেলফি তোলার জন্য বেশ গড়পড়তা।
কার জন্য উপযুক্ত:
যারা একদম কম খরচে একটি ফিউচার-প্রুফ ৫জি প্রসেসরের শাওমি ফোন কিনতে চান।
আমার সংক্ষিপ্ত মতামত:
ভিডিও কল বা সেলফি খুব বেশি গুরুত্বপূর্ণ না হলে, শুধু পারফরম্যান্স এবং ৫জি স্পিডের দিক থেকে এটি ১৫ হাজার টাকার বাজেটে অপ্রতিদ্বন্দ্বী।
১০. Itel S24
আইটেল ব্র্যান্ডটি সাধারণত অত্যন্ত বাজেট ফ্রেন্ডলি ফোন তৈরির জন্য পরিচিত। তবে Itel S24 এর কালার চেঞ্জিং ব্যাক ডিজাইন এবং ১০৮ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা দিয়ে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে।
- বর্তমান আনুমানিক বাংলাদেশ মূল্য: ১৩,৫০০ – ১৫,০০০ টাকা
- Display: 6.6-inch IPS LCD, 90Hz
- Processor: MediaTek Helio G91 Ultra
- RAM: 8GB
- Storage: 128GB
- Camera: Rear: 108 MP (Samsung ISOCELL HM6) | Front: 8 MP
- Battery: 5000 mAh
- Charging: 18W Type-C Charging
- Operating System: Android 13 with itel OS 13
ভালো দিক:
- সূর্যের আলোতে গেলে ফোনের পেছনের অংশের কালার পরিবর্তন হয় (কালার চেঞ্জিং ব্যাক)।
- ১৩ হাজার টাকার বাজেটে ১০৮ মেগাপিক্সেলের স্যামসাং সেন্সর ক্যামেরা অবিশ্বাস্য!
- ৮ জিবি ফিজিক্যাল র্যামের সাথে ভার্চুয়াল র্যামের সুবিধা।
- ডিজাইনে চমৎকার মেটালিক রিং ক্যামেরা মডিউল রয়েছে।
খারাপ দিক:
- আইটেলের সফটওয়্যার অপ্টিমাইজেশন কিছুটা দুর্বল মনে হতে পারে।
- হেভি গেমিংয়ে ফ্রেম ড্রপ দেখা যায়।
কার জন্য উপযুক্ত:
যাদের বাজেট খুবই সীমিত (১৪ হাজার টাকার নিচে) কিন্তু দেখতে রাজকীয় এবং ভালো ক্যামেরার একটি ফোন চান।
আমার সংক্ষিপ্ত মতামত:
আইটেল যেভাবে কম বাজেটে ১০৮ মেগাপিক্সেল ও কালার চেঞ্জিং ডিজাইন দিয়েছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। সাধারণ ইউজারদের জন্য এটি অত্যন্ত চমৎকার বাজেট কিলার।
২০-৩০ হাজার টাকার মধ্যে ১০ টি সেরা স্মার্টফোন
১০-১৫ হাজার টাকার মধ্যে ১০ টি সেরা স্মার্টফোন
২০ হাজার টাকার মধ্যে ১০টি সেরা Walton স্মার্টফোন
ফ্রি ফায়ার খেলার জন্য সেরা বাজেট ফোন
Samsung বনাম Xiaomi — কোন ফোন কিনবেন? সঠিক গাইড
Samsung S26 Ultra price in Bangladesh
সেরা ১০টি ফোনের তুলনামূলক ছক (Comparison Table)
নিচের টেবিলটি দেখলে আপনি এক নজরে সব কটি ফোনের স্পেসিফিকেশন ও দামের তুলনা করতে পারবেন। এতে আপনার জন্য সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া আরও সহজ হবে।
| মডেলের নাম | প্রসেসরের মডেল | র্যাম ও স্টোরেজ | ব্যাটারি ও চার্জিং | মূল ক্যামেরা | আনুমানিক দাম (টাকা) |
|---|---|---|---|---|---|
| Redmi 14C | Helio G81 Ultra | 6GB / 128GB | 5160mAh, 18W | 50 MP AI | ১৪,৫০০ – ১৬,৫০০ |
| Samsung A05s | Snapdragon 680 | 4GB / 128GB | 5000mAh, 25W | 50 MP Triple | ১৬,৫০০ – ১৮,০০ |
| Realme C65 | Helio G85 | 8GB / 256GB | 5000mAh, 45W | 50 MP Dual | ১৭,৫০০ – ১৯,৫০০ |
| Infinix Hot 40 Pro | Helio G99 | 8GB / 256GB | 5000mAh, 33W | 108 MP Triple | ১৮,০০০ – ১৯,৯৯৯ |
| Tecno Spark 20 Pro | Helio G99 | 8GB / 256GB | 5000mAh, 33W | 108 MP Dual | ১৬,৫০০ – ১৮,০০০ |
| Moto G24 Power | Helio G85 | 8GB / 128GB | 6000mAh, 30W | 50 MP Dual | ১৪,৫০০ – ১৬,০০০ |
| iQOO Z9 Lite 5G | Dimensity 6300 | 6GB / 128GB | 5000mAh, 15W | 50 MP Dual | ১৭,৫০০ – ১৯,০০০ |
| Vivo Y28 4G | Helio G85 | 6GB / 128GB | 6000mAh, 44W | 50 MP Dual | ১৮,০০০ – ১৯,৫০০ |
| Poco M6 5G | Dimensity 6100+ | 6GB / 128GB | 5000mAh, 18W | 50 MP AI | ১৫,০০০ – ১৭,৫০০ |
| Itel S24 | Helio G91 Ultra | 8GB / 128GB | 5000mAh, 18W | 108 MP Single | ১৩,handle – ১৫,০০০ |
দাম সময় ও অফারের কারণে পরিবর্তন হতে পারে। কেনার আগে অবশ্যই অফিসিয়াল শোরুম বা বিশ্বস্ত দোকানে দাম যাচাই করে নিন।
বাজেট ফোন কেনার আলটিমেট গাইড (Buying Guide)
আপনি যদি আমাদের তালিকার বাইরেও অন্য কোনো ফোন কিনতে চান, তবে কেনার আগে অবশ্যই এই নিচের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো খেয়াল রাখবেন। কারণ এগুলোই একটি ফোনের আসল প্রাণ।
Display (ডিসপ্লে)
এই বাজেটে আপনি সাধারণত দুই ধরনের ডিসপ্লে পাবেন—HD+ এবং FHD+। সবসময় চেষ্টা করবেন FHD+ ডিসপ্লে প্যানেলযুক্ত ফোন নিতে, কারণ এতে ভিডিও বা ছবি অনেক বেশি স্পষ্ট দেখায়। এর পাশাপাশি ডিসপ্লেতে 90Hz বা 120Hz রিফ্রেশ রেট আছে কি না তা দেখে নিন। উচ্চ রিফ্রেশ রেট থাকলে ফোন স্ক্রল করার সময় অনেক বেশি মসৃণ ও প্রিমিয়াম অনুভূতি দেয়।
Processor (প্রসেসর)
ফোন যেন হ্যাং না করে, তার জন্য একটি ভালো প্রসেসর প্রয়োজন। ২০ হাজার টাকার নিচে MediaTek Helio G99 হলো বর্তমানের রাজা। এছাড়া ৫জি কানেক্টিভিটি চাইলে Dimensity 6100+ বা Dimensity 6300 চিপসেটগুলো বেশ ভালো পারফরম্যান্স দেয়। হেলিও জি৩৫ বা জি৩৬ প্রসেসরের ফোনগুলো এড়িয়ে চলার চেষ্টা করুন, কারণ এগুলো সময়ের সাথে সাথে বেশ স্লো হয়ে যায়।
Camera (ক্যামেরা)
ফোনের ক্যামেরায় শুধু মেগাপিক্সেল দেখলেই ভালো ছবি পাওয়া যায় না। মেগাপিক্সেলের পাশাপাশি লেন্সের অ্যাপারচার এবং ইমেজ সেন্সর কেমন তা জানা জরুরি। এই বাজেটে ৫০ মেগাপিক্সেলের স্যামসাং বা সনি সেন্সরগুলো খুব ভালো কাজ করে। কেনার সময় ইউটিউবে ওই ফোনের ক্যামেরা রিভিউ ভিডিও দেখে ছবি ও ভিডিওর বাস্তব মান যাচাই করে নিন।
Battery & Charging (ব্যাটারি ও চার্জিং)
সারা দিন নির্বিঘ্নে ব্যবহারের জন্য কমপক্ষে 5000mAh ব্যাটারি থাকা উচিত। তবে আপনি যদি ফোন খুব বেশি ব্যবহার করেন, তবে 6000mAh ব্যাটারিযুক্ত ফোন (যেমন মটোরোলা বা ভিভো) বেছে নিতে পারেন। তবে ব্যাটারির পাশাপাশি চার্জিং স্পিডও জরুরি। কমপক্ষে 18W বা তার বেশি (৩৩ ওয়াট বা ৪৫ ওয়াট) ফাস্ট চার্জিং সমর্থন করে এমন ফোন কিনুন, অন্যথায় চার্জ হতে ৩-৪ ঘণ্টা সময় লেগে যাবে।
Software Update (সফটওয়্যার আপডেট)
অনেকে এই বিষয়টি খেয়াল করেন না। কিন্তু সফটওয়্যার আপডেট না পেলে ফোন দ্রুত ব্যাকডেটেড হয়ে যায় এবং সিকিউরিটি ঝুঁকিতে পড়ে। স্যামসাং এবং শাওমি এই বাজেটে অন্তত ২ বছরের অ্যান্ড্রয়েড আপডেট এবং ৩ বছরের সিকিউরিটি প্যাচ নিশ্চিত করে, যা অন্যান্য ব্র্যান্ডের তুলনায় অনেক ভালো।
Storage Type (স্টোরেজের ধরন)
র্যামের পাশাপাশি স্টোরেজ বা রমের স্পিডও জরুরি। ইদানীং ফোনে UFS 2.2 স্টোরেজ টাইপ ব্যবহার করা হচ্ছে যা পুরোনো eMMC 5.1 এর চেয়ে অনেক বেশি দ্রুত ফাইল আদান-প্রদান করতে পারে। তাই সম্ভব হলে UFS স্টোরেজ টাইপের ফোনগুলো বেছে নিন।
কে কোন ফোনটি কিনবেন? (User Persona Guide)
আমরা সবাই এক রকম কাজের জন্য ফোন কিনি না। আপনার মূল ব্যবহারের ওপর ভিত্তি করে নিচে সহজে ফোন সাজিয়ে দেওয়া হলো:
Student (শিক্ষার্থীদের জন্য)
শিক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজন বড় স্ক্রিন (পিডিএফ পড়তে ও ক্লাস করতে), ভালো ব্যাটারি লাইফ এবং মোটামুটি স্মুথ পারফরম্যান্স। আপনাদের জন্য সেরা হবে Redmi 14C অথবা Samsung Galaxy A05s।
Gaming (গেমারদের জন্য)
আপনি যদি গেম খেলতে ভালোবাসেন, তবে চোখ বন্ধ করে Infinix Hot 40 Pro বা Tecno Spark 20 Pro নিন। এর ভেতরের MediaTek Helio G99 প্রসেসর আপনাকে বাজেট ফ্রেন্ডলি চমৎকার গেমিং ব্যাকআপ দেবে।
Camera (ফটোগ্রাফি লাভার)
যারা সুন্দর সুন্দর ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় আপলোড করতে চান, তাদের জন্য ১০৮ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা সেন্সর সমৃদ্ধ Tecno Spark 20 Pro অথবা স্টাইলিশ Itel S24 সেরা অপশন হতে পারে।
Office (অফিস ব্যবহারের জন্য)
অফিসিয়াল কাজ, কলিং, ইমেইল এবং হোয়াটসঅ্যাপের মতো অ্যাপ অনায়াসে ব্যবহার করার জন্য একটি বিজ্ঞাপনহীন ও নির্ভরযোগ্য ফোন দরকার। এই ক্ষেত্রে Samsung Galaxy A05s এবং Moto G24 Power হবে সবচেয়ে বিশ্বস্ত সঙ্গী।
Content Creator (ভিডিও তৈরির জন্য)
যারা রিলস বা টিকটক ভিডিও তৈরি করেন, তাদের জন্য বেশি রেজোলিউশনের ফ্রন্ট ক্যামেরা দরকার। সেলফি ক্যামেরায় ৩২ মেগাপিক্সেল থাকায় Infinix Hot 40 Pro আপনাদের জন্য সেরা কাজ করবে।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQ)
নিচে ক্রেতাদের মনে আসা ১০টি অতি সাধারণ প্রশ্ন এবং তার বাস্তবসম্মত উত্তর দেওয়া হলো:
১. ২০ হাজার টাকার নিচে কি ৫জি ফোন পাওয়া যায়?
হ্যাঁ, বর্তমানে এই বাজেটেও চমৎকার ৫জি ফোন পাওয়া যাচ্ছে। যেমন আমাদের তালিকায় থাকা iQOO Z9 Lite 5G এবং Poco M6 5G। এগুলো কম বাজেটে ৫জি নেটওয়ার্কের উচ্চগতির ইন্টারনেট স্পিড ব্যবহারের দারুণ সুযোগ করে দেয়।
২. এই বাজেটের ফোনে কি পাবজি (PUBG) ভালো খেলা যাবে?
হ্যাঁ, খেলা যাবে। আপনি যদি মিডিয়াম সেটিংসে (Medium Settings) ল্যাগ ছাড়া পাবজি বা ফ্রি ফায়ার খেলতে চান, তবে MediaTek Helio G99 প্রসেসরযুক্ত ফোনগুলো বেছে নিতে হবে। এই প্রসেসর দিয়ে খুব মসৃণভাবে গেম খেলা সম্ভব।
৩. আনঅফিসিয়াল ফোন কেনা কি নিরাপদ?
আনঅফিসিয়াল ফোন জেনুইন বা অরিজিনাল হয়ে থাকে। তবে এতে বাংলাদেশ সরকারের ট্যাক্স দেওয়া থাকে না এবং অফিসিয়াল কোনো ব্র্যান্ড ওয়ারেন্টি পাওয়া যায় না। ভবিষ্যৎ ঝামেলা এড়াতে অফিসিয়াল ওয়ারেন্টিসহ ফোন কেনাই সবচেয়ে নিরাপদ ও বুদ্ধিমানের কাজ।
৪. ৬০০০ এমএএইচ (6000mAh) ব্যাটারির ফোন কিনলে কি ফোন ভারী হয়?
হ্যাঁ, ব্যাটারির ধারণক্ষমতা যত বেশি হবে, ব্যাটারির ফিজিক্যাল সাইজ ও ওজন তত বাড়বে। সাধারণত ৬০০০ এমএএইচ ব্যাটারির ফোনগুলোর ওজন ২০০ গ্রাম বা তার বেশি হয়ে থাকে। তবে এর বদলে আপনি প্রায় ২ দিনের দীর্ঘ ব্যাটারি লাইফ পাবেন।
৫. গরিলা গ্লাস প্রোটেকশন কি আসলেই জরুরি?
অবশ্যই! গরিলা গ্লাস প্রোটেকশন থাকলে হাত থেকে ফোন অসাবধানতাবশত পড়ে গেলে মূল ডিসপ্লে সহজে ফেটে বা ভেঙে যায় না। এটি আপনার ফোনের স্ক্রিনকে স্ক্র্যাচ বা দাগ পড়া থেকেও রক্ষা করতে সাহায্য করে।
৬. স্যামসাং ফোনের বক্সে চার্জার না থাকার কারণ কী?
পরিবেশ রক্ষা এবং বক্সের সাইজ ছোট করার অজুহাতে স্যামসাং তাদের বাজেট ফোনগুলোর বক্স থেকে চার্জিং অ্যাডাপ্টার বাদ দিয়েছে। তবে এটি ব্যবহারকারীদের জন্য একটি অতিরিক্ত খরচের কারণ, কারণ ব্যবহারকারীকে আলাদাভাবে ২৫ ওয়াটের টাইপ-সি অ্যাডাপ্টার কিনতে হয়।
৭. এই বাজেটের ফোনে কি পানি ঢুকলে নষ্ট হয়ে যাবে?
অধিকাংশ বাজেট ফোনে পুরোপুরি ওয়াটারপ্রুফ (IP68) রেটিং থাকে না। তবে এগুলোতে সাধারণত IP53 বা IP54 রেটিং দেওয়া থাকে, যার মানে হলো ফোনটি সামান্য জলের ফোঁটা, ঘাম বা হালকা বৃষ্টি সহ্য করতে পারবে। কিন্তু পানিতে ডুবিয়ে রাখলে ফোনটি নষ্ট হয়ে যাবে।
৮. অ্যামোলেড (AMOLED) এবং আইপিএস (IPS LCD) ডিসপ্লের মধ্যে পার্থক্য কী?
অ্যামোলেড ডিসপ্লেতে কালার বা রঙ অনেক বেশি ভাইব্রেন্ট ও নিখুঁত দেখায়, বিশেষ করে কালো রঙ একদম নিখুঁত কুচকুচে কালো মনে হয় এবং এটি ব্যাটারি সাশ্রয়ী। অন্যদিকে IPS LCD বেশ উজ্জ্বল হলেও অ্যামোলেডের মতো অতটা প্রিমিয়াম কালার দিতে পারে না। ২০ হাজার টাকার নিচে সাধারণত IPS LCD-এর আধিক্য বেশি।
৯. ভার্চুয়াল র্যাম (Virtual RAM) কি আসলেও কাজ করে?
ভার্চুয়াল র্যাম আপনার ফোনের ইন্টারনাল স্টোরেজ বা রম থেকে কিছু অংশ র্যাম হিসেবে ব্যবহার করে। এটি আপনাকে ব্যাকগ্রাউন্ডে বেশি অ্যাপ ধরে রাখতে সাহায্য করতে পারে, তবে এটি আসল ফিজিক্যাল র্যামের মতো অতটা দ্রুতগতির কাজ করতে পারে না।
১০. রিয়েলমি নাকি শাওমি—বাজেট ফোনে কোনটি সেরা?
উভয় ব্র্যান্ডই বাজেট সেগমেন্টে দুর্দান্ত কাজ করে। শাওমি সাধারণত ডিসপ্লে সাইজ ও অলরাউন্ডার ফিচারে জোর দেয়। অন্যদিকে রিয়েলমি তাদের ইউনিক ডিজাইন ও সুপার ফাস্ট চার্জিং টেকনোলজির জন্য বেশি পরিচিত। আপনার ব্যক্তিগত পছন্দের ওপর ভিত্তি করে যেকোনো একটি বেছে নিতে পারেন।
উপসংহার
একটি নতুন ফোন কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় আপনার নিজের প্রয়োজনের কথা সবার আগে চিন্তা করুন। আপনি যদি শুধুই গেম খেলতে চান, তবে ডিজাইন বা ক্যামেরার দিকে কিছুটা ছাড় দিয়ে ভালো প্রসেসরযুক্ত ফোন বেছে নিন। আবার আপনার যদি দীর্ঘস্থায়ী ফোন পছন্দ হয়, তবে একটু বেশি দাম দিয়ে হলেও বিশ্বস্ত ব্র্যান্ডের দিকে পা বাড়ান।
২০ হাজার টাকার বাজেটটি সত্যিই অত্যন্ত চমৎকার। আশা করি আমাদের এই ২০ হাজার টাকার মধ্যে ভালো ১০টি সেরা মোবাইল ফোন এর তালিকাটি আপনার সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করেছে।
আপনার কাছে কী মনে হয়?
আমাদের এই তালিকায় থাকা কোন ফোনটি আপনার সবচেয়ে বেশি পছন্দ হয়েছে? অথবা আপনি বর্তমানে কোন ফোনটি ব্যবহার করছেন? নিচে কমেন্ট করে আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। আপনার একটি কমেন্ট অন্য একজন পাঠককে সঠিক ফোন কিনতে সাহায্য করতে পারে।
২০ হাজার টাকার নিচে সেরা ১০টি ফোন













Post Comment